রেজাউল করিম মজুমদার ঃ
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের হালিশহর থানার পোর্ট কানেকটিং রোডে অবস্থিত দূরন্ত বাজার সুপারশপ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাটসহ প্রতিষ্ঠানটির মালিককে একাধিকবার নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় রোজ সোমবার (১৬ জুন) ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদ শাহেদ (২২) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এতে ২৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং ১২০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিটকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর ও বাদীর আইনজীবী আবুল মনছুর সিকদার। তিনি আরো বলেন, আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। বিবাদীরা হলেন- মোঃ রাসেল সরকার (৩৩), কাজী মঞ্জুরুল করিম (৩৫), নার্গিস আক্তার নীলা (৪০), মোহাম্মদ সাব্বির হোসেন (৩৭), পিতা-জসীম উদ্দিন, মোঃ রিয়াদ (৩৫), শাকিল (৩২), লুৎফুর আমিন (৩৫), বজলুর রহমান (৪৫), জাহেদুল ইসলাম শাহিন (২০), শাহাদাত হোসেন (২০), ইয়াছিন আহম্মদ ফাহিম (২৫), রাশেদা বেগম (৫০), জাহেদা আক্তার সাথী (২৮), ফাতেমা আক্তার (১৯), উর্মি আক্তার (২২), সাজ্জাদ হোসেন (৩২), শিবলু (৩০), রিপন (২২), সাজ্জাদ (২২), মাহমুদ (২২), তাহসিন (২৬), মো. হান্নান (৪৫) ও রুবেল নাথ (৩২)। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, রোজ বুধবার (৪ জুন) দুপুর ২টা থেকে রোজ বৃহস্পতিবার (৫ জুন) রাত ১০টা পর্যন্ত একটানা শাহেদকে তার অফিসে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং দাবি করা হয় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা। এতে তার অফিসে থাকা বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী ও ব্যক্তিগত মালামাল ও লুটপাট করে নিয়ে যায়, যার ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৩ কোটি টাকারও বেশি।
শাহেদের অভিযোগে আরও বলা হয়, দুরন্ত বাজার সুপার শপের বয়স ৪ বছর নিজ হাতে তিলে তিলে গড়ে তোলা এই প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠেছে। হামলাকারীরা আমার এই প্রতিষ্ঠানে শুধু হামলা করেই নীরব ছিল না, দুরন্ত বাজার সুপার শপের মালামাল লুট থেকে শুরু করে সুপার শপের ক্যাশ ভেঙ্গে ১,৮৮,০০০ হাজার টাকা, মানিব্যাগ থেকে ৫৮ হাজার টাকা, দুরন্ত বাজার সুপার শপসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের স্টাফদেরকে ঈদ বোনাস সহ বেতন দেওয়ার জন্য অফিস কক্ষে থাকা একটি ব্যাগে ২৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকাও ছিনিয়ে নিয়ে যায়, শাহেদের হাতে থাকা ১ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা মূল্যের স্যামসাং গ্যালাক্সি মোবাইলটিও ছিনিয়ে নিয়ে যায়, শাহেদের মানিব্যাগে থাকা ব্যাংকের ডেবিট কার্ডটিও ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং এটিএম বুথে গিয়ে এক নাম্বার আসামি ও ৬ নাম্বার আসামি ২ লাখ টাকা করে ৪ লাখ টাকা তুলে নেয়, দুরন্ত বাজার সুপার শপে আড়াই কোটি টাকার মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায় এবং সুপার শপে ভেতরে ৯০ হাজার টাকার মালামাল ভাঙচুর করে, শুধু তাই না শাহেদের বাসায় গিয়ে আলমারি ভেঙে ৩ ভরি স্বর্ণালংকার ও আড়াই লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আলমারিতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র জোরপূর্বক নিয়ে নেয় এবং ব্যাংক লেনদেন করে অর্থ স্থানান্তর করে।
এ সময় তাকে জোর করে চেকবই, ব্যবসায়িক স্ট্যাম্প ও প্যাডে স্বাক্ষর করানো হয়। মারধরের সময় ফেসবুক লাইভে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ণ করা হয়। শাহেদের দাবি, জরুরী নিরাপত্তার জন্য সরকারি ৯৯৯-এ কল করলেও হালিশহর থানা পুলিশ সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বরং পরিস্থিতি ঘোলাটে করে হামলাকারীদের সঙ্গে সমন্বয় করে আমাকে ফের তাদের হাতে তুলে দেয়। ঘটনার পর শাহেদ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং হালিশহর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ বিষয়টি আমলে না নিয়ে শাহেদকে দীর্ঘদিন ঘোরানো হয়। পরে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল মনছুর সিকদার (সোহেল) বলেন, থানায় মামলা না নেওয়ায় আমার মক্কেল ভুক্তভোগী আদালতে মামলা করেছেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।হালিশহর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামানকে এক প্রশ্নে বলা হয়, দূরন্ত বাজার সুপার শপে ভাঙচুর লুটপাটসহ প্রতিষ্ঠানটির মালিক শাহেদকে মারধরের ঘটনা ঘটে (৪ জুন) তারপর থানায় গিয়ে মামলা করতে চাইলে তাকে একাধিকবার ঘোরানো হয় কিন্তুু মামলা নেওয়া হয়নি কেনো? এই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তার ব্যক্তিগত উত্তর দেয় শাহেদের কাছে দেড় হাজার লোক টাকা পাবে ১০ লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত পাবে তাই সে নিজ এলাকায় না গিয়ে ধামাচাপা দিয়ে থাকে।
, (৪ জুন) আমরা পুলিশ এবং সেনাবাহিনী উপস্থিত ছিলাম, পাওনাদারকে টাকা পয়সা ভাগ করে দেওয়া হয় এবং কিছু মালামালও ভাগ করে দেওয়া হয় বাকি টাকা নেওয়ার সময় দেওয়া হয়েছে বলে জানান।